Friday, April 4, 2014

হক বুজতে চাই!!

বন্ধু রুপম আমরা সকলেই জানি, প্রত্যেক নাবী ও রাসূলগণের দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু ছিল “তাওহীদ”। আর প্রত্যেক নাবী ও রাসূল তাই তাওহীদের দাওয়াতের মধ্য দিয়ে তাদের কওমকে ঈমানের ৬টি স্তম্ভের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, এবং এই ৬টি স্তম্ভের উপর পূর্ণ ঈমান আনায়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যেমন প্রথম রাসূল নূহ আলাইহিস সালাম যখন তাঁর কওমের নিকট তাওহীদের দাওয়াতের দিকে আহ্বান করলেন, উত্তরে তাঁর কওম বলেছিলেন- “আমরা তো পূর্ববর্তীকালের আমাদের পিতৃপুরুষদের মধ্যে এমনটা শুনি নি।" (সূরা মুমিনুন,২৪) । অনূরূপ ভাবে মূসা এবং হারূন আলাইহিস সালাম যখন আল্লাহর নির্দেশে ফিরআউনের নিকট একই দাওয়াত নিয়ে গেলেন, তখন সে বলল- “তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি?(সূরা: ত্বা-হা, ৫১) । ঠিক একই ভাবে শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কওমও অনুরূপ কথা বলেছিল। অর্থাৎ এই জাহেলিয়াত অনেক পুরাতন । আর আজও উম্মাতে মুহাম্মাদির ভিতর যারা এই জাতিকে শিরক বিদাত থেকে ফিরে সহি হাদিস মানার আহ্বান করেন, তাদেরকে একই কথার সম্মুখীন হতে হচ্ছে- “আমাদের বাপ দাদাদের নিকট, বুজুর্গের নিকট তো শুনি নাই!”, “তাহলে অতীতে যারা চলে গেছে তাদের কি হবে?” “সবাই কি তাহলে ভুল করছে?” “তাহলে তারা কি জাহান্নামী” ইত্যাদি প্রশ্ন। আর এর সমাধানও প্রত্যেক রাসূলগণদের দাওয়াতের ভিতর বিদ্যমান। তা হচ্ছে “তাওহীদের” দাওয়াত। “পীর পরিত্যাগ করতে হবে, প্রচলিত ৪মাজহাব পরিত্যাগ করতে হবে” ইত্যাদির দিকে আগে আহ্বান না করে সর্ব প্রথম তাওহীদের দিকে আহ্বান করুন। একটি মানুষকে যদি আপনি ঈমানের ৬টি স্তম্ভের উপর পূর্ণ ঈমান আনায়ন করাতে পারেন, তাহলে কোনো সহি হাদিস মানানোর জন্য তাকে শত সহি হাদিস দেখাতে হবে না, সে ১টি সহি হাদিস শুনা মাত্রই সাহাবা (রাদি) দের মত বলে দিবে “আমরা শুনলাম আর মান্য করলাম!”(সূরা বাকারাহ, ২৮৫) , যদিও তা তার বাপ দাদার শিখানো পদ্ধতির, বুজুর্গের তরিকের বিপরীত।

No comments:

Post a Comment